বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে! দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে
শ্যামা সংগীতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান এত প্রগাঢ় যে তাঁর শ্যামা সংগীত বিহীন শ্যামা পুঁজা যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তা ছাড়াও হিন্দু মাইথোলজি নিয়ে নজরুলের অজস্র লেখা প্রমাণ করে তার দখল কত গভীর।
"বিদ্রোহী" কবিতা বুঝতে গেলে হিন্দু পুরাণ না জানলে মাথার উপর দিয়ে যাবে।
সে নজরুলকে "কাফের" উপাধি দিতে কসুর করেন নাই ততকালীন ইসলামের পুরোধা ব্যক্তি ব্যক্তিত্ব।
আর আজ?
নজরুলের বাণীতেই বলিঃ
"গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ
বাহিয়া চলেছে আগের মতন,
কই রে আগের মানুষ কই।"
খাম্বাজ রাগে দাদরা তালের এ গানেই জানতে চাওয়া হয়েছে, "আগের মানুষ কই?"
যারা নজরুলকে "কাফের" ফতোয়া দিয়েছিলেন তাদের উত্তরসুরীরাই তো আছেন তবে তাদের অনেকে ওয়াজের স্টেজে নজরুলের ইসলামী সংগীত নিয়ে, অন্য রচনা নিয়ে অহংকার করেন।
ঐ শ্যামা সংগীতে ঋষি, ইন্দ্র কৈলাস, যোগীন্দ্র, অন্নদা এমন সব হিন্দু পৌরাণিক শব্দ আছে যা এখনকার প্রজন্মের অনেক বাংলা সাহিত্য নিয়ে পাশ করা ছাত্রও ভালো জানে না। (এটা আমার প্রমাণিত)
আজ যখন কোরাণ, ইফতারের অনুষ্ঠান বন্ধ করে "হোলি" 'র উৎসব তখন সেই প্রতিবাদ কোথায়?
আফসোস নজরুলেই এবং ঐ একই গানেঃ
"আমরা জানি না, জানে না কেউ
কূলে ব’সে কত গণিব ঢেউ
দেখিয়াছি কত, দেখিব এও
নিঠুর বিধির লীলা কতই।
কইরে আগের মানুষ কই।"
১৯৪০ সালে হোলি নিয়ে নজরুলের লেখা নিচের গানটা বেচু দত্ত রেকর্ড করেছিলেন। এটা মুলত বৃন্দাবনে সখীদের সাথে শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রার প্রেক্ষাপটে লেখা।
বর্তমানে অনেকের মধ্যে সদ্য প্রয়াত অনুপ জালোটা সুন্দর গেয়েছেন।
"ব্রজ–গোপী খেলে হোরী
খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে।
পিরীতি–ফাগ মাখা গোরীর সঙ্গে
হোরি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে।
বসন্তে এ কোন্ কিশোর দুরন্ত
রাধারে জিনিতে এলো পিচ্কারী হাতে।
গোপীনীরা হানে অপাঙ্গ খর শর ভ্রুকুটি ভঙ্গ
অনঙ্গ আবেশে জর জর থর থর শ্যামের অঙ্গ।
শ্যামল তনুতে হরিত কুঞ্জে
অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে
রঙ–পিয়াসি মন ভ্রমর গুঞ্জে
ঢালো আরো ঢালো রঙ প্রেম–যমুনাতে।"
গানের শব্দগুলোই বলে দেয়া এ এক আনন্দ যজ্ঞ।
আজ এ অবেলায় ছেলে মেয়েদের দোষ না দিয়ে নামাজ রোজা সম্পর্কে তাদের উন্নাসিক আচরণে আহত না হয়ে একটু তলিয়ে দেখলেই ডায়াগনোসিস সহজ হয়।
পরিবরে যদি ধর্মীয় আবহ থাকতো, নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধের চর্চা থাকতো তাহলে হাহাকার করতে হতো না।
বাবা মা 'র কাজ বা পরিবারের কাজ সমাজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে দেবে না। বরং বাইরের বাতাস যেনো সন্তানদেরকে টলাতে না পারে তাই পারিবারিক ভিত্তি অনেক সুসংহত ও শক্ত হতে হয়।
পরিবার সন্তান ভুলে দুনিয়ার পিছনে হাভাতের মতো ছুটে শেষে দেখা যায়ঃ
"দাদা, তেরি ঘর কিয়া বরবাদ পয়মাল।"- নজরুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ফার্সি বিভাগের কাজও ছাত্রকে নামাজ রোজার ব্যাসিক শিখানো না! ওটা পরিবারেই হতে হয়।
অন্য প্রতিষ্ঠান, ছেলেমেয়ে, প্রভাবের দোষ না দিয়ে একটু গভীরে দৃষ্টি দিতে হবে।
যে ইসলাম ভিন্ন যে কোনো ধর্মের আচার অনুষ্ঠানকে অবহেলা করতে নিষেধ করে আজ তাঁর এ হাল হবে কেনো?
গায়েবের খাজানা থেকে আল্লাহ সব "হোম ওয়ার্ক" করে দেবেন না। ওটা আমাদেরকেই করতে হবে।
আর যেমন "হোম ওয়ার্ক" তেমনি তার "স্কোর বা মার্কস।"
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রব্বুল আলামীন ঘোষনা করেনঃ
"আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের আরাধনা করে, তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না। তাহলে তারা ধৃষ্টতা দেখাতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গাল-মন্দ করবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ-কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদের বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।"(সুরা আনআম : আয়াত ১০৮)


0 Comments:
Post a Comment