Comments

3/recent-comments

১৮ বছর ধরে একসঙ্গে দুটি সরকারি চাকরিতে.....


 

এক প্রতিষ্ঠানে পিয়ন, আরেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক তিনি। আইন ভঙ্গ করে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে চলেছেন আনোয়ার আলী। শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি সবই করে চলেছেন।

জানা যায়, ১৮ বছর ধরে আনোয়ার আলী গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের পিয়ন পদে চাকরি করছেন। পাশাপাশি একই সময়ে তিনি ওই উপজেলার এম বি কে মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

খাতা-কলমে প্রধান শিক্ষক হলেও তিনি বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া বিদ্যালয়ে আসেন না বলে জানান এলাকাবাসী ও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে বেতন তুললেও যে মাধ্যমিক বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেখান থেকে তিনি কোনো বেতন তোলেন না। তবে ২০০৫ সালে যোগ দেওয়া ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি সবই চালাচ্ছেন তিনি।

জোরপূর্বক একই সঙ্গে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার অভিযোগে গত ৪ মার্চ মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে মানিকদিয়া কেশবনগর ভোলাডাঙ্গা মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের ম‍্যানিজিং কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এম বি কে মাধ্যমিক বিদ‍্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রায় বছরজুড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন। বিশেষ দিনগুলোতে তার পদধুলি পড়ে প্রতিষ্ঠানে। আর প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল কাজ তিনি বাড়িতে বসেই সারেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খরচপত্র ও নিয়োগের বিষয়ে ঠিকই খোঁজ রাখেন।’

এম বি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রয়াত সভাপতি মোজাম্মেল হকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অবৈধভাবে ২০০৫ সালে নিয়োগ নেন আনোয়ার আলী, যা কমিটির অন্য সদস্যরা জানেন না। স্থানীয়ভাবে আনোয়ার আলী প্রভাবশালী হওয়ায় তখন তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেননি কেউ। বিদ‍্যালয়টি ২০২৩ সালে এমপিওভুক্ত হলে আমার স্বাক্ষর জাল করে বাড়িতে বসেই ২৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই প্রতিষ্ঠানে তিনজন শিক্ষককে নিয়োগ দেন আনোয়ার আলী।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার আলী বলেন, ‘আমি গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজে চাকরি করি এটা সঠিক। তবে এ বিদ‍্যালয়টির সঙ্গে আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত আছি। আমি অফিশিয়াল কাজগুলো অনেক সময় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আবার কখনো বাড়িতে বসে করি। তবে এটা ঠিক এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কোনোদিন বেতন উঠাইনি। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে খুব ভালোবাসি।’

এ বিষয়ে গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কলেজে ১৮ বছর ধরে বেতন উত্তোলন করছে আনোয়ার আলী। আমিও হঠাৎ করেই শুনছি তিনি নাকি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হোসনে মোবারক বলেন, ‘আমি শোনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। শিগগিরই এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Share on Google Plus

About income

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 Comments:

Post a Comment